Royalbangla
রয়াল বাংলা ডেস্ক
রয়াল বাংলা ডেস্ক

শিশুর ওজন বাড়ানোর স্বাস্থ্যসম্মত ও ঘরোয়া উপায়

মা ও শিশু

প্রত্যেক বাবা -মা কামনা করেন তার শিশু সম্পূর্ণ সুস্থ্য হয়ে বেড়ে ওঠে এবং তার পরিপূর্ণ মানসিক বিকাশ ঘটে। শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য মানসম্মত ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাদ্যতালিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । বয়সের সাথে সাথে সামঞ্জস্য রেখে যদি তার ওজন পরিমিত পরিমাণে বাড়তে থাকে তাহলেই নিশ্চিত করে বলা যায় শিশুর নিত্যদিনের খাবার মানসম্মত।
শিশুর ওজন
শুধুমাত্র খাদ্যই শিশুর ওজন স্বল্পতার কারণ নয় । কিছু শিশু বংশগত কারণে ওজনে হালকা হয়। দৈনন্দিন শারীরিক কার্যক্রমের উপরও নির্ভর করে তার ওজন । সামগ্রিক ভাবে পরিমিত ওজন ও সুস্থ্যতা নিশ্চিত করাই মুল কথা।
* শিশু নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম ও খেলাধুলা করছে কিনা সেদিকে নজর দিতে হবে । শারীরিক পরিশ্রম ক্ষুধার উদ্রেক করে যা খাওয়ার পূর্বও শর্ত।
* শুধুমাত্র ওজন বৃদ্ধি করার জন্য খাবার পরিবেশন না করে , পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাদ্যের দিকে নজর দেওয়া উচিৎ।
* শিশুর পছন্দ ও অপছন্দের খাবারের তালিকা প্রস্তুত করে সে অনুযায়ী খাবার খাওয়াতে হবে ।
* প্রতিবেলার খাবারে ভিন্নতা রুচি বাড়াতে সাহায্য করে ।
খাদ্যতালিকার প্রয়োজনীয়তা
প্রথম পর্যায়ে শিশু যে ধরনের খাবারে অভ্যস্ত হয় বয়স বাড়ার সাথে সাথে সেগুলোই তার খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। তার পছন্দ অপছন্দ অনেকাংশে এ সময়ের উপর নির্ভর করে । খোলা খাবার বা অভ্যস্ত না করে তাই বাড়িতে তৈরি খাবার বা ফলমূলের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ।
ওজন বৃদ্ধিকারক ও পুষ্টিকর খাবারসমূহ
১. মায়ের বুকের দুধ:
* শিশু জন্মের পর থেকে ৬ মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো বাধ্যতামূলক । এটি সহজে হজম হয়, পরিমিত পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এবং স্বাস্থ্যকর যা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও সামঞ্জস্যপূর্ণ ওজন বৃদ্ধি করে।
* আপনার শিশু যদি হাসোজ্জল থাকে এবং খেলাধুলা করে ও দিনে ৫-৮ বার মল মূত্র ত্যাগ করে তবে বুঝতে হবে পর্যাপ্ত বুকের দুধ পাচ্ছে।
* ৬ মাস বয়সের পর থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি অন্যান্য তরল ও অর্ধতরল খাবারের অভ্যাস তৈরি করতে হবে। এতে করে তার দৈহিক গঠন বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়তি পুষ্টি চাহিদা পূরণ হবে।
২. কলা:
* কলাতে পটাশিয়াম , ভিটামিন -সি, ভিটামিন- বি৬ এবং কার্বোহাইড্রেট থাকে প্রচুর পরিমাণে । অধিক পরিমাণে ক্যালরি থাকায় ওজন বাড়ানোর জন্য কার্যকরী।
* পাকা কলার রস তৈরি করে খাওয়ানো যেতে পারে।
* কলা সেদ্ধ করে পেস্ট তৈরি করে খাওয়ালেও দারুণ উপকার পাওয়া যায়।
৩. মিস্টি-আলু:
* মিষ্টি আলু খুব সহজে সিদ্ধ করা যায় , শিশুর মুখরোচক খাবার , সহজপাচ্য ও অধিক পুষ্টি সমৃদ্ধ।
* ভিটামিন -এ, ভিটামিন- সি , ভিটামিন -বি৬ , তামা , ফসফরাস, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ প্রভৃতি শিশুর ওজন বৃদ্ধিকারি আদর্শ উপাদানে ভরপুর।
* তন্তুসমৃদ্ধ মিষ্টি আলু সুস্বাদু চিপস বা সবজি স্যুপ তৈরি করে খাওয়ানো যেতে পারে যা শিশুরা খেতে খুব পছন্দ করে।
৪. ডাল:
* ডাল প্রোটিন , ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম , আয়রন , ফাইবার এছাড়া হরেক রকমের পুস্টি সমৃদ্ধ ।
* ৬ মাস বয়সের পরই শিশুকে ডাল খাওয়ানো যেতে পারে ওজন বর্ধক তরল খাবার হিসেবে ।
* ৭-৯ মাস বয়সে অল্প সবজি দিয়ে মিশ্র খিচুড়ি রান্না করে খাওয়ানো খুবই উপকারী।
৫. ঘি ও মাখন:
* ৮-১০ মাস বয়সী শিশুদের জন্য শারীরিক গঠন ও বৃদ্ধির জন্য মাখন ভীষণ কার্যকরী ।
* গরম ডাল বা খিচুড়ির উপর অল্প ঘি মেখে খাওয়ানো যেতে পারে।
* খুব দ্রুত ওজন ও চর্বি বৃদ্ধি করে তাই স্বল্প পরিমাণে খাওয়ানো উচিৎ।
৬. ডিম:
* প্রোটিনে ভরপুর ডিম ১২ মাস পূর্ণ হওয়া শিশুদের জন্য আদর্শ খাবার।
* চর্বি , ভিটামিন, খনিজলবন সমৃদ্ধ একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার এটি।
* টোস্ট এর সঙ্গে , অমলেট অথবা সিদ্ধ করে খাওয়া খুব সুস্বাদু ও উপাদেয়।
৭. অন্যান্য:
মিষ্টিকুমড়া, শিমের বিচি, মটরশুঁটি, কলাই, বাদাম, খেজুর ইত্যাদি খাবারও অল্প পরিমাণে খায়ানো খুবই কার্যকরী। আরও পড়ুন শিশুর খাবারে অরুচি দূর করার জন‌্য কিছু টিপস।
  1. royalbangla.com এ আপনার লেখা বা মতামত বা পরামর্শ পাঠাতে পারেন এই এ‌্যড্রেসে royal_bangla@yahoo.com
পরবর্তী পোস্ট

জেনে নিন থাইরয়েড সমস্যায় ওষুধ খাওয়ার সঠিক নিয়ম


.

বাচ্চাদের খাবারে রূচি বাড়ানোর উপায়


ডায়েটিশিয়ান সিরাজাম মুনিরা
.

শীতে শিশুদের রোগমুক্ত রাখবেন যেভাবে


ডাঃ সাঈদ সুজন
.

শিশুদের মোটা হওয়া রোধ করবেন কিভাবে?


ডায়েটিশিয়ান ফারজানা
.

বাচ্চা মোটা হয়ে গেলে কি করবেন?


Diet Consultant Nusrat Jahan
.

শিশুর দৈনন্দিন খাদ্যাভাস কেমন হওয়া উচিত?


সিরাজাম মুনিরা
.

বাচ্চাদের কোষ্ঠকাঠিন‌্য দূর করার উপায়


সাদিয়া জাহান স্মৃতি
.

আপনার বাচ্চার জন‌্য পেঁপের পাঁচটি স্বাস্থ‌্য উপকারিতা যা জানলে আপনি অবাক হবেন


Nusrat Jahan
.

নবজাতক ও মায়েদের সুস্থতার জন‌্য বুকের দুধ খাওয়ানোর গুরুত্ব


পুষ্টিবিদ সিরাজাম মুনিরা
.

বাচ্চা খাটো বা উচ্চতা কম ?


Nusrat Jahan
.

প্রেগন্যন্সিতে বর্জনীয় খাবার অর্থাৎ যে খাবার গুলো গর্ভস্থ শিশুর জন্য বর্জন করতে হবে


নিউট্রিশনিস্ট সাদিয়া স্মৃতি

আক্কেল দাঁত কখন এবং কেন ফেলতে হয়?

ডা: এস.এম.ছাদিক,ওরাল এন্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারী
সাধারণত আক্কেল দাঁত সম্পূর্ণভাবে উঠার সময় হলো ১৭-২৫ বছর বয়স । কিন্তু ১৭-২০ বছর বয়সের মধ্যেই বুঝা যায় আক্কেল দাঁত সঠিকভাবে উঠবে কি না।....
বিস্তারিত

শালগম এর উপকারীতা

পুষ্টিবিদ মোঃ ইকবাল হোসেন,পুষ্টি কর্মকর্তা
শালগম অত্যন্ত পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে সুপরিচিত। ভিটামিন এ, সি এবং ভিটামিন কে তে ভরপুর থাকে শালগম। শালগমের সবচাইতে ভালো দিক হচ্ছে এদের ক্যালরি খুব কম থাকে। নিয়মিত শালগম খাওয়ার কিছু কারণ সম্পর্কে জেনে নিই চলুন।........
বিস্তারিত

সাইনাস আর সাইনুসাইটিস, আসুন সহজে বুঝে নিই.

ডা: এস.এম.ছাদিক,ওরাল এন্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারী
স্বাভাবিক নিশ্বাস নিতে মনে হয় নাকে কি যেনো আটকে আছে,, আবার নাক দিয়ে পানিও পড়ে। গায়ে হালকা জ্বর ও আছে, আবার সাথে মাথা ব্যাথা। তিনি ডাক্তারের কাছে গেলেন, ডাক্তার বললেন, আপনার সাইনুসাইটিস হয়েছে,........
বিস্তারিত

গর্ভাবস্থায় কি চা-কফি পান করা যায়?

ডাঃ সরওয়াত আফরিনা আক্তার (রুমা) ,Consultant Sonologist
চা ও কফি আপনাদের অনেকেরই প্রছন্দের পানীয়। তাই গর্ভাবস্থায়ও খেতে চান, তাই না? এ ক্ষেত্রে আমাদের জানা উচিত এই পানীয় পান করা যাবে কি না, গেলে কতটুকু করা যাবে।......
বিস্তারিত

বাচ্চাদের ফল ও সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলবেন কিভাবে?


পুষ্টিবিদ মোঃ ইকবাল হোসেন।বিএসসি (সম্মান), এমএসসি (প্রথম শ্রেণী) (ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি)

মহিলাদের ইনফার্টিলিটি দূর করার ক্ষেত্রে ডিম্বাণুর গুণাগুণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?


ডাঃ হাসনা হোসেন আখী,এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য),এমএস (অবস এন্ড গাইনী)

কিডনী সিস্ট কতটা ঝুঁকিপূর্ণ ?


ডাঃ মোহাম্মদ ইব্রাহিম আলী,এম.বি.এস,বিসিএস (স্বাস্থ্য) ,এমএস (ইউরোলজি)

শিশুদের ডায়েট কেমন হওয়া উচিত ?


নিউট্রিশনিস্ট সুমাইয়া সিরাজী,Bsc (Hon's) Msc (food & Nutrition)

লিভারের সুস্থতায় কি করবেন?


নুসরাত জাহান, ডায়েট কনসালটেন্ট

অনিয়মিত পিরিয়ডের কারণ , চিকিৎসা ও ঘরোয়া প্রতিকার


ডাঃ হাসনা হোসেন আখী