Royalbangla
রয়াল বাংলা ডেস্ক
রয়াল বাংলা ডেস্ক

লিভার বা যকৃতের যত্ন কেন ও কিভাবে নিবেন

যকৃতের যত্ন

যকৃত শরীরের সব থেকে বড় অঙ্গাণু যা সর্বক্ষন সক্রিয় থেকে চলমান রাখে আমাদের শরীরকে। ভিটামিন ও আয়রন জমা রাখা, সঞ্চিত গ্লূকোজ ভেঙ্গে শরীরের উপযোগী যৌগ গঠন, পুরাতন লোহিত কনিকা ধ্বংস সাধন এবং জমে থাকা ক্ষতিকর চর্বি গলানো প্রভৃতি নানা ধরনের অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন শারীরবৃত্তীয় কাজ করে থাকে যকৃত।
তবে সব থেকে জরুরী যে কাজটি করে তা হলো রক্তের ছাঁকনি বা পরিষ্কারক হিসেবে ভুমিকা রাখে। ক্ষতিকারক রাসায়নিক বা অন্যান্য যে সকল উপাদান রক্তে মিশে থাকে তা রক্ত থেকে পৃথক করে বাইরে বের করে দেয় এবং আমাদের রোগ প্রতিরোধ পদ্ধতির অন্যতম একটি অংশ হিসেবে কাজ করে।
যকৃত দুর্বল হয়ে পড়লে আমাদের শরীর স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারাবে। নিচে এর জন্য উপকারি বাড়িতে বানানো কিছু পানীয় উল্লেখ করা হলো-
  1. ১। চাঃ
    গ্রীন টি বা সবুজ চা স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী হিসেবে প্রমানিত।
    * রোগ নিরামক ও ক্যান্সার প্রতিরোধী সবুজ চা অতিরিক্ত চর্বি গলিয়ে যকৃতের উপর চাপ কমাতে সাহায্য করে।
    * তবে এর সঙ্গে চিনি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে । চিনি যকৃতের জন্য ক্ষতিকর।
  2. ২। ভিটামিন সি যুক্ত ফলঃ
    ভিটামিন সি যকৃত পরিষ্কার রকাহতে সাহায্য করে।
    * বাতাবি লেবু, মাল্টা, আঙ্গুর, কমলা লেবু ইত্যাদি ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে যা খুবই উপকারি।
    * টাটকা এ ফলগুলো রস করে খাওয়া যেতে পারে।
    * তবে অবশ্যই কিছুদিন রেখে দেওয়া বা ফ্রীজে রাখা ফল খাওয়া অনুচিত। এতে প্রচুর সুক্রোজ থাকে এবং পুষ্টিগুণ নস্ট হয়।
  3. ৩। বীট পালংঃ
    অনেকেরই পছন্দের খাদ্যতালিকায় বীট পালং নেই, তবে পুষ্টিগুণ বিচারে তা অনেক এগিয়ে।
    * রোগপ্রতিরোধ করে ও যকৃত সুরক্ষায় সাহায্য করে।
    * রক্তে অক্সিজেন পরিবহনের পরিমান বৃদ্ধি করে।
    * প্রচুর ভিটামিন সি ও তন্তু সমৃদ্ধ খাবার।
    * রস করে অথবা সবজী হিসেবে খেলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়।
  4. ৪। গাজরঃ
    গাজর রঙ্গিন সবজির মধ্যে সবথেকে উপকারি বিশেষ করে যকৃতের জন্য।
    * এক কাপ পানির সঙ্গে গাজরের রস ও পালংশাকের রস মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে
    । * প্রচুর ভিটামিন এ থাকে যা যকৃতকে রোগ মুক্ত রাখে।
    * ফ্ল্যাভোনয়েড ও বেটা ক্যারোটিন থাকে যা ক্ষতিকর উপাদান ধংস করে।
  5. ৫। কাঁচা হলুদঃ
    মশলা ও রঞ্জক ছাড়াও ঔষধি উপাদান হিসেবে বহু বছর ধরে কাঁচা হলুদ ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
    * ১ কাপ উষ্ণ পানির মধ্যে মধু ও কাঁচা হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।
    * যকৃতের ক্ষয় পূরণ ও কোষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দারুণ কার্যকরী।
    * ক্ষতিকারক উপাদান ধ্বংস করে এবং যকৃতের রোধ প্রতিরোধী এনজাইম বা রঞ্জক উৎপাদন ত্বরান্বিত করে।
    * এটি পিত্তথলি ও অন্যান্য রক্ত পরিষ্কারক অঙ্গাণুর কর্ম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ফলে যকৃতের উপর চাপ কমে।
  6. ৬। রসুনঃ
    রসুন বহু রোগ প্রতিরোধি গুন সম্পন্ন একটি উপাদান।
    * প্রচুর পরিমাণে সালাফার থাকে এর মধ্যে যা উপকারি এনজাইম উৎপাদন বৃদ্ধি করে।
    * এতে অধিক পরিমাণে সোলেনিয়াম থাকে যা ক্ষুদ্র জৈবানু হিসেবে ক্ষতিকর উপাদান ধ্বংস করে।
  7. ৭। তন্তু সমৃদ্ধ খাবার গ্রহনঃ
    প্রতিদিনের খাবার তালিকায় প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল থাকা আবশ্যক। বিশেষ করে ফুল কপি, বাঁধা কপি, ডাঁটা শাক , কলা প্রভৃতি অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের খাবার পরিপাকতন্ত্রে সাহায্য করে এবং ক্ষতিকর উপাদান বের করে দেয়।
  8. ৮। জলপাই তেলঃ
    চর্বি থাকা সত্বেও জলপাই তেল স্বাস্থ্যের জন্য ভালো তার উপকারী চর্বির জন্য। শরীরের রক্তসংবহন তন্ত্র সুস্থ্য ও সহজ রাখতে দারুণ কার্যকরী। এটির মধ্যে যকৃতের চর্বি দূরকারী উপাদান রয়েছে। দৈনিক প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।
  9. পানির সঙ্গে দেহের অতিরিক্ত চর্বি ও ক্ষতিকর উপাদান বের হয়ে যায় ফলে যকৃতের কাজের পরিমান কমে যায়। ভীষন দরকারি এ অঙ্গাণু সতেজ রাখা আমাদের সুস্থ্য থাকার জন্য খুবই প্রয়োজন।
  1. royalbangla.com এ আপনার লেখা বা মতামত বা পরামর্শ পাঠাতে পারেন এই এ‌্যড্রেসে royal_bangla@yahoo.com
পরবর্তী পোস্ট

জেনে নিন থাইরয়েড সমস্যায় ওষুধ খাওয়ার সঠিক নিয়ম


আক্কেল দাঁত কখন এবং কেন ফেলতে হয়?

ডা: এস.এম.ছাদিক,ওরাল এন্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারী
সাধারণত আক্কেল দাঁত সম্পূর্ণভাবে উঠার সময় হলো ১৭-২৫ বছর বয়স । কিন্তু ১৭-২০ বছর বয়সের মধ্যেই বুঝা যায় আক্কেল দাঁত সঠিকভাবে উঠবে কি না।....
বিস্তারিত

শালগম এর উপকারীতা

পুষ্টিবিদ মোঃ ইকবাল হোসেন,পুষ্টি কর্মকর্তা
শালগম অত্যন্ত পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে সুপরিচিত। ভিটামিন এ, সি এবং ভিটামিন কে তে ভরপুর থাকে শালগম। শালগমের সবচাইতে ভালো দিক হচ্ছে এদের ক্যালরি খুব কম থাকে। নিয়মিত শালগম খাওয়ার কিছু কারণ সম্পর্কে জেনে নিই চলুন।........
বিস্তারিত

সাইনাস আর সাইনুসাইটিস, আসুন সহজে বুঝে নিই.

ডা: এস.এম.ছাদিক,ওরাল এন্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারী
স্বাভাবিক নিশ্বাস নিতে মনে হয় নাকে কি যেনো আটকে আছে,, আবার নাক দিয়ে পানিও পড়ে। গায়ে হালকা জ্বর ও আছে, আবার সাথে মাথা ব্যাথা। তিনি ডাক্তারের কাছে গেলেন, ডাক্তার বললেন, আপনার সাইনুসাইটিস হয়েছে,........
বিস্তারিত

গর্ভাবস্থায় কি চা-কফি পান করা যায়?

ডাঃ সরওয়াত আফরিনা আক্তার (রুমা) ,Consultant Sonologist
চা ও কফি আপনাদের অনেকেরই প্রছন্দের পানীয়। তাই গর্ভাবস্থায়ও খেতে চান, তাই না? এ ক্ষেত্রে আমাদের জানা উচিত এই পানীয় পান করা যাবে কি না, গেলে কতটুকু করা যাবে।......
বিস্তারিত

বাচ্চাদের ফল ও সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলবেন কিভাবে?


পুষ্টিবিদ মোঃ ইকবাল হোসেন।বিএসসি (সম্মান), এমএসসি (প্রথম শ্রেণী) (ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি)

মহিলাদের ইনফার্টিলিটি দূর করার ক্ষেত্রে ডিম্বাণুর গুণাগুণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?


ডাঃ হাসনা হোসেন আখী,এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য),এমএস (অবস এন্ড গাইনী)

কিডনী সিস্ট কতটা ঝুঁকিপূর্ণ ?


ডাঃ মোহাম্মদ ইব্রাহিম আলী,এম.বি.এস,বিসিএস (স্বাস্থ্য) ,এমএস (ইউরোলজি)

শিশুদের ডায়েট কেমন হওয়া উচিত ?


নিউট্রিশনিস্ট সুমাইয়া সিরাজী,Bsc (Hon's) Msc (food & Nutrition)

লিভারের সুস্থতায় কি করবেন?


নুসরাত জাহান, ডায়েট কনসালটেন্ট

অনিয়মিত পিরিয়ডের কারণ , চিকিৎসা ও ঘরোয়া প্রতিকার


ডাঃ হাসনা হোসেন আখী