Royalbangla
রয়াল বাংলা ডেস্ক
রয়াল বাংলা ডেস্ক

অ্যাসিডিটি প্রতিরোধে কিছু ভালো অভ‌্যাস

অ্যাসিডিটি

আমাদের পাকস্থলী খাদ্য পরিপাকের জন্য স্বাভাবিক নিয়মেই বিভিন্ন ধরনের পাচক রস বা পরিপাক এসিড তৈরি করে। তবে নানা ধরনের কারণে, খাদ্য পরিপাকের জন্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত পাচক রস উৎপন্ন হয় যা বেশ অস্বস্তিকর ও কিছু কিছু ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এ ধরনের সমস্যা অ্যাসিডিটি বা অম্বলের রোগ বলে চিহ্নিত। প্রতিটি মানুষই কিছু পরিস্থিতিতে এ সমস্যার মুখোমুখি হন যা । এছাড়াও দীর্ঘদিনের পেটব‌্যথা বা আইবিএস এর সাথে এসিডিটির যোগসাজস রয়েছে। খুব সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে বা ঘরে তৈরি পথ্য ব্যবহারে এ থেকে নিরাময় পাওয়া যায়।
অ্যাসিডিটি এর লক্ষণ
* ফুসফুসে প্রদাহ
* পেট ফুলে যাওয়া
* টক ঢেঁকুর ওঠা
* ঘন ঘন হেঁচকি বা হিক্কা ওঠা
* বমি বমি ভাব, কিছু ক্ষেত্রে বমির সঙ্গে রক্ত প্রবাহ
* মলের সঙ্গে রক্ত প্রবাহ
* বদহজম
* মাথা ব্যাথা
অ্যাসিডিটি প্রতিরোধের উপায়
১। অ্যাসিড উৎপন্নকারী খাদ্য বর্জন করাঃ
অ্যাসিডিটি দূর করার জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন কোন খাদ্য আপনার অধিক অম্ল তৈরিতে ভুমিকা রাখে সেগুলো চিহ্নিত করা। কারও ক্ষেত্রে দুগ্ধজাত খাবার, অনেকের আবার কাঁচা ফলমূল, কিছু ক্ষেত্রে চা কফি প্রভৃতি নানাবিধ কারণে বৃদ্ধি পেতে পারে অম্ল। সেগুলো চিহ্নিত করে যতটুকু সম্ভব খাবারগুলো পরিহার করা কর্তব্য ।
২। অধিক মরিচ ও মসলাযুক্ত খাবার থেকে দূরে থাকাঃ
অতিরিক্ত ঝালযুক্ত খাবার অনেকেরই খুব প্রিয় মুখে বেশ ঝাঁঝালো অনুভুতি তৈরি করে তাই। একই সাথে তা মুখের লালাগ্রন্থি ও ফুসফুসকে প্রভাবিত করে অধিক পাচক রস উৎপাদনে যা অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিক এর কারণ। এ ছাড়াও অতিরিক্ত মরিচ ও মসলা পাকস্থলির জ্বালাপোড়া থেকে দীর্ঘস্থায়ী আলসার এর জন্ম দিতে পারে। ৩। দিনের খাবার অল্প অল্প করে নির্দিষ্ট সময় অন্তর খাবার অভ্যাস করাঃ দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা এবং পরবর্তীতে একত্রে অধিক খাবার গ্রহণ গ্যস্ট্রিক বা অম্বল রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। এ অভ্যাস সম্পূর্ণ ত্যাগ করতে হবে। পরিমানে অল্প রেখে বেশি বারে খাবার গ্রহণ করা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
৪। ধূমপান ত্যাগ করাঃ
ধূমপান যেমন ক্যান্সারের কারণ, তেমন গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার জন্যেও মারাত্মকভাবে দায়ী। দীর্ঘস্থায়ী পাকস্থলীর ক্ষত থেকে পরিত্রাণ পেতে তাই অবশ্যই ধূমপান পরিহার করুন।
৫। উঁচু বালিশে মাথা রেখে ঘুমানঃ
রাত্রে ঘুমের ব্যাঘাত করে থাকে গ্যস্ট্রিক এর সমস্যা। এক্ষেত্রে উঁচু বালিশে মাথা রেখে যেভাবে পাকস্থলি অপেক্ষা গলনালী উচুতে থাকে ঘুমালে তবে এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।
৬। অ্যালোভেরা জুশ পান করাঃ
পাকস্থলী বা হজম সংক্রান্ত সমস্যায় অ্যালোভেরা দারুণ কার্যকরী।
* খাবার গ্রহনের আগে ১/৪ কাপ অ্যালোভেরার রস সেবন করলে গ্যাস্ট্রিক হয়না।
* অথবা অল্প পরিমাণে অ্যালোভেরা মিশ্রিত আধা গ্লাস শরবত পান করা যেতে পারে। তবে অধিক হারে সেবন একেবারেই অনুচিত।
৭। আদা সেবনঃ
আদা অ্যাসিডিটি প্রতিরোধে অনন্য। * তাৎক্ষনিক অ্যাসিডিটি বন্ধ করতে কাঁচা আদা মুখে দিয়ে চিবানো যেতে পারে।
* অল্প আদা এক কাপ পানিতে ফুটিয়ে রাত্রে ঘুমানোর আগে পান করলে স্থায়ী সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
* এক চামচ করে আদার রস দিনে তিনবার গ্রহণ করলে গ্যাস্ট্রিকের কারণে পাকস্থলির প্রদাহ সহ জটিল সমস্যা দূর করে।
৮। মৌরী সেবনঃ
তরকারির খুব প্রচলিত মসলা মৌরি দ্রুত গ্যাস্ট্রিক মোকাবেলায় সাহায্য করে।
* খাবার গ্রহনের পর মৌরি খেলে উপকার পাওয়া যায়।
* এছাড়াও ১/২ চামচ মৌরি এক কাপ পানিতে ফুটিয়ে রস করে খেলে অ্যাসিডিটি দূর হয়।
৯। দইঃ
তৈলাক্ত খাবার অধিক গ্রহনের কারণে গ্যাস্ট্রিক হতে পারে। এছাড়াও বদহজম জনিত গ্যাস্ট্রিক থেকে তাৎক্ষনিক মুক্তি পেতে দই খুবই কার্যকরী। দৈনিক সকালে এক চামচ দৈ সেবন করলে দারুণ উপকার পাওয়া যায় এ ধরনের পাকস্থলির সমস্যা থেকে।
১০। বেকিং সোডাঃ
ঘরে তৈরি অ্যাসিডিটি নিরাময়ের ওষুধ হিসেবে বেকিং সোডা ব্যবহার করা হয়।
* ১ চামচ বেকিং সোডা ১ গ্লাস পানিতে মিশিয়ে (স্বাদ অনুযায়ী সামান্য লেবু দেওয়া যেতে পারে) পান করলে কয়েক মিনিটের মধ্যে গ্যাস্ট্রিক জনিত অসুস্থ্যতা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।
  1. royalbangla.com এ আপনার লেখা বা মতামত বা পরামর্শ পাঠাতে পারেন এই এ‌্যড্রেসে royal_bangla@yahoo.com
পরবর্তী পোস্ট

রাইনোপ্লাস্টি (Rhinoplasty) নাকের সৌন্দর্য বর্ধনের সার্জারি।


.

অ্যাসিডিটি প্রতিরোধে কিছু ভালো অভ‌্যাস


রয়াল বাংলা ডেস্ক
.

দীর্ঘদিন ধরে পেট খারাপ বা আইবিএস হলে কী করবেন


ডায়েটিশিয়ান সিরাজাম মুনিরা
.

এসিডিটি কমানোর সেরা দশটি টিপস


পুষ্টিবিদ জয়তী মুখার্জী
.

আলসারের খাদ্য ব্যবস্থাপনা – পর্ব ১


পুষ্টিবিদ সিরাজাম মুনিরা
.

ওটস কেন খাবেন? এর উপকারিতাই বা কি ?


নিউট্রিশনিস্ট সুমাইয়া সিরাজী
.

গ্যাসের সমস্যা ওষুধ খেয়ে না কমিয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে কমান


ডায়েট কনসালটেন্ট নুসরাত জাহান
.

এত গ্যাস্ট্রিক আলসার এর রোগী,সমাধান কি???


ডা: অনির্বাণ মোদক পূজন,হৃদরোগ, বাতজ্বর ও উচ্চ রক্তচাপ রোগ বিশেষজ্ঞ
.

অস্বস্তিকর পেটের পীড়া- পেটফাঁপা থেকে দূরে থাকার উপায়


পুষ্টিবিদ মুনিয়া মৌরিন মুমু,নিউট্রিশনিস্ট
.

বিভিন্ন কারণে হৃদপিণ্ডের সমস্যা হলে কী করণীয়?


ডা: অনির্বাণ মোদক পূজন,হৃদরোগ, বাতজ্বর ও উচ্চ রক্তচাপ রোগ বিশেষজ্ঞ
.

গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ এবং রক্তশূন্যতা


ডাঃ গুলজার হোসেন

গর্ভাবস্থায় ঝুকি

পুষ্টিবিদ মোঃ ইকবাল হোসেন,পুষ্টি কর্মকর্তা
প্রতিটি মেয়ের বুকের মাঝে লালিত স্বপ্নগুলোর মাঝে অন্যতম একটি স্বপ্ন হচ্ছে মা হওয়া। সুস্থ্য স্বাভাবিক মাতৃত্ব আমাদের সবার কাম্য। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু জটিলতা দেখা দেয় যা.....
বিস্তারিত

এনোমালি স্ক্যানে সমস্যা ধরা পড়লে করণীয় কি?

ডাঃ সরওয়াত আফরিনা আক্তার (রুমা),Consultant Sonologist
এনোমালি স্ক্যানের মাধ্যমে অধিকাংশ মেজর জন্মগত ত্রুটি ধরা পড়ার কথা যদি ভাল মেশিন ও দক্ষ সনোলজিস্ট দিয়ে করানো হয়। ধরুন কারো এনোমালি স্ক্যানের রিপোর্টে.....
বিস্তারিত

পুরুষ বন্ধ্যাত্ব, প্রয়োজন চিকিৎসার

ডাঃ হাসনা হোসেন আখী,এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য),এমএস (অবস এন্ড গাইনী)
কোভিড আবহে দীর্ঘদিন গৃহবন্দি থাকার সময় বিশেষজ্ঞরা মনে করেছিল যে সন্তান উৎপাদনের হার বৃদ্ধি পাবে । কিন্তু হিসাব অনুযায়ী দেশে সন্তানহীন দম্পতির সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।....
বিস্তারিত

ডালিম বা বেদানায় কতখানি আয়রন?

ডাঃ গুলজার হোসেন ,বিশেষজ্ঞ হেমাটোলজিস্ট
বেদানার রঙ লাল দেখে অনেকেই ভাবেন রক্ত বুঝি এখানেই। বাস্তবতা হলো বেদানায় আয়রন আছে ঠিকই কিন্তু সেটা আয়রনের বেস্ট সোর্স নয়। একশ গ্রাম বেদানায় আয়রন থাকে ০.৩ মিলি গ্রাম।......
বিস্তারিত

সুস্থতায় নিয়মানুবর্তিতা: যেসব নিয়ম মেনে চললে দীর্ঘদিন সুস্থ থাকা যায়


পুষ্টিবিদ মুনিয়া মৌরিন মুমু

বাচ্চার আদর্শ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে যা করা উচিত এবং যা করা উচিত নয়


নিউট্রিশনিস্ট সুমাইয়া সিরাজী,Bsc (Hon's) Msc (food & Nutrition)

ব্রেস্ট ফিডিং মায়েদের ডায়েট কেমন হওয়া উচিত?


নিউট্রিশনিস্ট সুমাইয়া সিরাজী,Bsc (Hon's) Msc (food & Nutrition)

লিম্ফোমাঃ রক্তের বিশেষ একপ্রকারের ক্যান্সার


ডাঃ গুলজার হোসেন ,বিশেষজ্ঞ হেমাটোলজিস্ট

রক্তের অসুখ পলিসাইথেমিয়া


ডাঃ গুলজার হোসেন ,বিশেষজ্ঞ হেমাটোলজিস্ট

ভ্যারিকোসিল কি? কাদের হয়? কি করণীয়?


ডাঃ মোঃ মাজেদুল ইসলাম,এমবিবিএস, এফসিপিএস (সার্জারি),জেনারেল, কোলোরেক্টাল এবং ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন।