Royalbangla
রয়াল বাংলা ডেস্ক
রয়াল বাংলা ডেস্ক

ত্বক ছিলে যাওয়া বা লাল হয়ে যাওয়া

ত্বক

খুব পরিচিত ঘটনা ত্বক ছিলে যাওয়া এবং যন্ত্রণা হওয়া। কাপড়ের সাথে অথবা অন্যকোন ভাবে ক্রমাগত ঘষা লেগে লেগে চামড়ার উপরিভাগ লাল হয়ে ওঠে এবং যন্ত্রণা করে। এ সমস্যা খুবই বিরক্তিকর এবং যন্ত্রণাদায়ক।

সমস্যার লক্ষণ সমূহ

* চুলকানো
* ত্বক লাল হয়ে যায়
* ঐ স্থানের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়
* জ্বালা যন্ত্রণা হয়
* কিছু ক্ষেত্রে ত্বক ফেটে রক্তপাত হতে পারে

ত্বক ছিলে যাওয়ার কারণ সমূহ

* ভেজা অবস্থায় ত্বকের সঙ্গে অন্য অঙ্গের ঘর্ষণ
* কাপড়ের সুতা যদি আরামদায়ক না হয় তবে
* কাপড়ের সঙ্গে দ্রুত ঘষা লাগা অন্যতম কারণ

কিছু স্বাভাবিক অবস্থা এর জন্য বেশি দায়ী হতে পারে যেমন-
* দীর্ঘসময় সাইকেল চালালে অথবা দৌড়ালে
* খেলোয়াড়দের
* শারীরিক স্থুলতা থাকলে বা নেশি মোটা মানুষের
* যেসব মায়েরা সন্তান্দের বুকের দুধ পান করান
এ ধরনের ক্ষেত্রে ঘন ঘন ত্বক ছিলে যাওয়ার সমস্যা হওয়া খুবই সাধারণ ব্যাপার। এর থেকে র‍্যাশ দেখা দেয় এবং দীর্ঘদিন থাকলে ত্বক স্থায়ীভাবে উজ্জ্বলতা হারায়, ঐ স্থান কালো বর্ন ধারন করে। তাই নিয়মিত সামান্য পরিচর্যায় সকল সমস্যা মোকাবেলা করা সম্ভব। কিছু পরিচর্যার পদ্ধতি উল্লেখ করা হলো-

  1. ১। আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার রাখাঃ
    ত্বক যখনই ছিলে যায় বা ক্ষত সৃষ্টি হয়, সাথে সাথে ঐ স্থান পরিষ্কার করতে হবে দ্রুত সেরে ওঠার জন্য এবং সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য।
    * উষ্ণ পানি দিয়ে নরম তোয়ালে বা কাপড়ের সাহায্যে আস্তে আস্তে ঐ স্থান পরিষ্কার করতে হবে, খুব সাধারণ সাবান ব্যবহার করা যেতে পারে
    * এরপর শুষ্ক কাপড়ের সাহায্যে মুছে ফেলতে হবে, খেয়াল রাখতে হবে যেন পরিস্কারের পর ক্ষত স্থান ভেজা না থাকে
  2. ২। বরফঃ
    আক্রান্ত স্থানে ব্যাথা ও জ্বালাপোড়া দ্রুত কমিয়ে দিতে বরফের বিকল্প নেই।
    * তোয়ালে বা এক খন্ড কাপড়ে কয়েকটি বরফের টুকরো পেচিয়ে নিতে হবে।
    * উক্ত স্থানে ৫ মিনিট চেপে ধরে রাখতে হবে
    * কিছু সময় বরফ উঠিয়ে আবার একই পদ্ধতি অনুসরন করতে হবে
  3. ৩। নারিকেল তেলঃ
    ত্বকের সমস্যার দারুণ সমাধান খুবই সহজেই পাওয়া যায় এমন প্রাকৃতিক উপাদান নারিকেল তেল।
    * ১ চামচ নারিকেল তেল নিতে হবে
    * হাতের তালুতে বেশ পরিমাণে নিয়ে আক্রান্ত স্থানে ভালো ভাবে মেখে দিতে হবে
    * ত্বকের তেল সম্পুর্ন শুষে নেওয়া অবধি অপেক্ষা করুন
  4. ৪। ঘৃতকাঞ্চন বা অ্যালোভেরা জেলঃ
    ত্বকের ক্ষত পূরণে অ্যালোভেরা ভীষণ উপকারী তাই এ ধরনের র‍্যাশ সহজেই সারিয়ে তোলে এবং এর জীবাণু প্রতিরোধী গুনের কারণে সংক্রামন রোগের থেকেও রক্ষা করে।
    * একটি অ্যালোভেরা পাতা নিয়ে কেটে সবটূকু জেল বের করে নিতে হবে।
    * আক্রান্ত স্থান ও তার আশেপাশে বেশ কিছু জায়গায় ভালোভাবে মেখে দিতে হবে
    * ২০/৩০ মিনিট পর পরিষ্কার করে ফেললেই হবে
  5. ৫। জলপাই তেলঃ
    ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষায় জলপাই তেলের কার্যক্ষমতা অতুলনীয়। ত্বক শীতল করে এবং দ্রুত সমাধান করে র‍্যাশের সমস্যা। ‘
    * হাতের তালুতে যথেষ্ট পরিমাণে পরিষ্কার জলপাই তেল নিতে হবে
    * লাল হয়ে ওঠা স্থানে ধীরে ধীরে লাগিয়ে দিতে হবে ত্বক সম্পুর্ন তেল শুষে নেওয়া অবধি
    * ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
    * রাতে ঘুমানোর আগে ব্যবহার করে সারা রাত রেখে দিলে অধিক উপকার পাওয়া যায়
  6. ৬।কাঁচা হলুদঃ
    ব্যাক্টেরিয়া প্রতিরোধী উপাদান সমৃদ্ধ কাঁচা হলুদ ত্বকের উপরের এ সমস্যাকে খুব তাড়াতাড়ি সেরে তোলে।
    * ৩ চামচ কাঁচা হলুদের গুঁড়ো এর সঙ্গে পরিমাণ মত প্রায় ২ চামচ পানির সঙ্গে মিশিয়ে ঘন মিশ্রনের পেস্ট তৈরি করতে হবে।
    * আক্রান্ত স্থানে এই মিশ্রণ মেখে দিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে তা শুকিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত।
    * দিনে কয়েকবার এটা ব্যবহার করা যেতে পারে।
  7. ৭। নিম পাতাঃ
    অনেক ঔষধি গুন সম্পন্ন প্রাকৃতিক উপাদান নিম।
    * পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে পরিমাণ মত নিম পাতা নিতে হবে।
    * পাতা গুলো বেটে পানির সাথে মিশিয়ে এই মিশ্রণ ক্ষত সাথানে লেপে দিতে হবে।
    * ২৫/৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেললে উপকার পাওয়া যায়।
  1. royalbangla.com এ আপনার লেখা বা মতামত বা পরামর্শ পাঠাতে পারেন এই এ‌্যড্রেসে royal_bangla@yahoo.com
পরবর্তী পোস্ট

জেনে নিন থাইরয়েড সমস্যায় ওষুধ খাওয়ার সঠিক নিয়ম


আক্কেল দাঁত কখন এবং কেন ফেলতে হয়?

ডা: এস.এম.ছাদিক,ওরাল এন্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারী
সাধারণত আক্কেল দাঁত সম্পূর্ণভাবে উঠার সময় হলো ১৭-২৫ বছর বয়স । কিন্তু ১৭-২০ বছর বয়সের মধ্যেই বুঝা যায় আক্কেল দাঁত সঠিকভাবে উঠবে কি না।....
বিস্তারিত

শালগম এর উপকারীতা

পুষ্টিবিদ মোঃ ইকবাল হোসেন,পুষ্টি কর্মকর্তা
শালগম অত্যন্ত পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে সুপরিচিত। ভিটামিন এ, সি এবং ভিটামিন কে তে ভরপুর থাকে শালগম। শালগমের সবচাইতে ভালো দিক হচ্ছে এদের ক্যালরি খুব কম থাকে। নিয়মিত শালগম খাওয়ার কিছু কারণ সম্পর্কে জেনে নিই চলুন।........
বিস্তারিত

সাইনাস আর সাইনুসাইটিস, আসুন সহজে বুঝে নিই.

ডা: এস.এম.ছাদিক,ওরাল এন্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারী
স্বাভাবিক নিশ্বাস নিতে মনে হয় নাকে কি যেনো আটকে আছে,, আবার নাক দিয়ে পানিও পড়ে। গায়ে হালকা জ্বর ও আছে, আবার সাথে মাথা ব্যাথা। তিনি ডাক্তারের কাছে গেলেন, ডাক্তার বললেন, আপনার সাইনুসাইটিস হয়েছে,........
বিস্তারিত

গর্ভাবস্থায় কি চা-কফি পান করা যায়?

ডাঃ সরওয়াত আফরিনা আক্তার (রুমা) ,Consultant Sonologist
চা ও কফি আপনাদের অনেকেরই প্রছন্দের পানীয়। তাই গর্ভাবস্থায়ও খেতে চান, তাই না? এ ক্ষেত্রে আমাদের জানা উচিত এই পানীয় পান করা যাবে কি না, গেলে কতটুকু করা যাবে।......
বিস্তারিত

বাচ্চাদের ফল ও সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলবেন কিভাবে?


পুষ্টিবিদ মোঃ ইকবাল হোসেন।বিএসসি (সম্মান), এমএসসি (প্রথম শ্রেণী) (ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি)

মহিলাদের ইনফার্টিলিটি দূর করার ক্ষেত্রে ডিম্বাণুর গুণাগুণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?


ডাঃ হাসনা হোসেন আখী,এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য),এমএস (অবস এন্ড গাইনী)

কিডনী সিস্ট কতটা ঝুঁকিপূর্ণ ?


ডাঃ মোহাম্মদ ইব্রাহিম আলী,এম.বি.এস,বিসিএস (স্বাস্থ্য) ,এমএস (ইউরোলজি)

শিশুদের ডায়েট কেমন হওয়া উচিত ?


নিউট্রিশনিস্ট সুমাইয়া সিরাজী,Bsc (Hon's) Msc (food & Nutrition)

লিভারের সুস্থতায় কি করবেন?


নুসরাত জাহান, ডায়েট কনসালটেন্ট

অনিয়মিত পিরিয়ডের কারণ , চিকিৎসা ও ঘরোয়া প্রতিকার


ডাঃ হাসনা হোসেন আখী