Royalbangla
জিয়ানুর কবির
জিয়ানুর কবির

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ম্যাচে দর্শকদের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

মানসিক স্বাস্থ্য

সকাল ৬টায় কোপা আমেরিকার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ফুটবল ম্যাচ। সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশের ফ্যান ও দর্শকরাও ফুটবল নিয়েও খুবই উত্তেজিত। সাইকোলজিক্যালি ফুটবল খেলা আবেগে পরিপূর্ণ। দর্শক ও ফ্যানরা তাদের প্রিয় দল, প্রিয় খেলোয়াড় এবং সেই টিমের অনুসাঙ্গিক বিষয় নিয়ে এতটাই একাত্ত্ববোধ করেন যে, এগুলো নিয়ে ম্যাচের দিনগুলোতে খুব বেশি আবেগ উত্তেজনায় টইটম্বুর থাকেন। Funk et al.(2000) ফ্যানদের খেলায় সামাজিক, কগনিটিভ ও সাইকোলজিক্যাল উপাদান (পছন্দ, পুর্বের অভিজ্ঞতা, একাত্ত্ববোধ) তার খেলা দেখার উত্তেজনাকে প্রভাবিত করে বলে মনে করেন। রাতে অনেকেই ঘুম খাওয়া বাদ দিয়ে খেলার পরিসংখ্যান, প্যারফরম্যান্স এবং প্রিয় খেলোয়াড়কে নিয়ে সারারাত কল্পনা করতে করতে উত্তেজিত থাকবেন। তার এই উত্তেজনার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে মনের মধ্যে নেতিবাচক অনুভূতি হবে এবং এটা মানতে না পেরে অনেকেই রাগ ও আগ্রাসী আচরণ করবেন। তার প্রিয় খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের উপর উত্তেজনা, আবেগ এবং মানসিক সুখ নির্ভর করে।

পূর্বের ভালো খেলা দর্শকদের খুব বেশি প্রভাবিত করে। প্রিয় দলের পূর্বের খেলার সাথে খেলা দেখার প্রতি প্যাশন তৈরি করে। যেমন-বর্তমানে যারা আর্জেন্টিনার সমথর্ক বেশিরভাগের মনে মেরাডোনার খেলার একটা পজিটিভ আবেগ রয়েছে এজন্য তারা আর্জেন্টিনার জন্য অস্থির করে, আর্জেন্টিনাকে নিয়ে ভাবে ও তাদের খেলায় আসক্ত হয়ে পড়ে। আবার যারা ব্রাজিলের পর পর দুটি বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স দেখে আপ্লুত হয়েছিলেন তাদের মনেও ব্রাজিল সম্পর্কে একটা ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি হয়েছে এবং তাদের ভাবনায় ব্রাজিল ও ব্রাজিল দলের প্রিয় খেলোয়াড়।

দর্শকদের খেলা দেখার মূল কারণ হলো তাদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও এংজাইটি। এই উত্তেজনা ও এংজাইটি প্রিয় দল জিতলেই সুখানুভূতিতে পরিনত হবে এবং আবার পরবর্তী খেলা দেখার জন্য উত্তেজিত হবেন। ঠিক তেমনিভাবে দল হারলে এই উত্তেজনা ও এংজাইটি শোকে পরিনত হবে। শোক হলে প্রথমেই এই পরাজয়কে অস্বীকার করবে, রাগ হবে, তর্ক করবে এবং কেউ কেউ একটা সময়ে সব গ্রহন করে নিয়ে শোক কাটিয়ে উঠবেন। তবে কেউ কেউ এই মনের অশান্তি অনেক দিন বয়ে বেড়াবে। তাই প্রিয় দলের জয় ও পরাজয় যাই হোক আগে মেনে নেয়ার প্রস্তুতি নিন। তাহলে দিনশেষে ফুটবল খেলাই জয়ী হবে এবং আপনি মানসিকভাবে সুস্থ্য থাকতে পারবেন।

লেখক

জিয়ানুর কবির
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিষ্ট
বি-এস.সি (অনার্স), সাইকোলজি
পিজিটি (সাইকোথেরাপি)
এম.এস ও এম.ফিল (ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি)।
কল্যাণ মানসিক হাসপাতাল
দক্ষিণ কল্যানপুর,মিরপুর রোড, ঢাকা
লেখকের সাথে যোগাযোগ করতে নিচের ফেসবুক পেইজে ক্লিক করুন
www.facebook.com/jianur.kabir

  1. royalbangla.com এ আপনার লেখা বা মতামত বা পরামর্শ পাঠাতে পারেন এই এ‌্যড্রেসে [email protected]
পরবর্তী পোস্ট

দাম্পত্য জীবনে সুখী হওয়ার টিপস


.

সময় অসময়ে মন খারাপ থাকলে যা করনীয়


পুষ্টিবিদ জয়তী মুখার্জী
.

মানসিক রোগ-মানসিক সুস্থতা: কিছু ভ্রান্ত ধারণা এবং আমাদের করণীয়


ডাঃ ফাতেমা জোহরা
.

মানসিক চাপ থেকে মুক্তিঃ ডায়েট ব‌্যবস্থাপনা ও করণীয়


পুষ্টিবিদ সিরাজাম মুনিরা
.

মানসিক আঘাতে কি ঘটে: কিভাবে সামলাবেন ?


ডাঃ ফাতেমা জোহরা
.

মানসিক স্বাস্থ‌্য:মানসিকভাবে ভাল থাকার উপায়


ডাঃ ফাতেমা জোহরা
.

বাচ্চাকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলার কিছু টিপস


নুসরাত জাহান, ডায়েট কনসালটেন্ট
.

আপনি কি ডিপ্রেশনে আক্রান্ত?


জিয়ানুর কবির,সাইকোথেরাপিস্ট
.

ডিপ্রেশনের সাইকোলজিক্যাল কারণ


জিয়ানুর কবির
.

মানসিক স্বাস্থ্য ভাল রাখতে শরীরচর্চা বা ব্যায়াম কতটা দরকারি?


Dr. Fatema Zohra
.

কিভাবে বুঝবেন আপনি উদ্বিগ্নতায় (Anxiety) আক্রান্ত?


জিয়ানুর কবির

অতিরিক্ত চিনি খেয়ে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছেন না তো???

পুষ্টিবিদ জেনিফা জাসিয়া,পুষ্টি বিষেজ্ঞ
চিনির তেমন কোন উপকারিতা নেই,যা আছে তা খুবই সামান্য। এই সামান্য উপকারের জন্য যদি অতিরিক্ত চিনি খেয়ে ফেলেন অথবা নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলেন তাহলে অনেক বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে।......
বিস্তারিত

নেতিবাচক আবেগ মোকাবেলা

জিয়ানুর কবির,ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিষ্ট
খুব নেতিবাচক আবেগ (রাগ, দুঃখ, হতাশা, উদ্বিগ্নতা) আসলে নিচের ভাবনাগুলো ভাবতে পারলে নেতিবাচক আবেগ কমে; তাই এগুলো লিখে রেখে প্রাক্টিস করতে পারলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।.....
বিস্তারিত

সুস্থ এবং ফিট থাকতে একজন নারী প্রাত্যহিক জীবনে যে রুটিন মেনে চলবেন

পুষ্টিবিদ মুনিয়া মৌরিন মুমু
একজন নারী যিনি কর্মজীবী হোন কিংবা গৃহিণী, সকাল থেকে রাত অবধি প্রচন্ড ব্যস্ত সময় পার করেন। সারাদিনের ব্যস্ততায় নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে গিয়ে অনেকেই নিজের প্রতি খেয়াল রাখার সময় পান না।.......
বিস্তারিত

ছেলে না মেয়ে হবে

ডাঃ সরওয়াত আফরিনা আক্তার (রুমা),Consultant Sonologist
আপনার ছেলে না মেয়ে হবে এটি আসলে পুরোপুরি সৃষ্টি কর্তার হাতে। এখানে আমরা চাইলেও কিছুই করতে পারি না। তবে ছেলে না মেয়ে হবে তাতে বাবা মায়ের কি কোন ভূমিকা নাই?......
বিস্তারিত