Royalbangla
রয়াল বাংলা ডেস্ক
রয়াল বাংলা ডেস্ক

কেমন করে বুঝবেন আপনার শরীরে ক‌্যালসিয়ামের ঘাটতি আছে ?

ক‌্যালসিয়াম

ক্যালসিয়াম শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পুস্টি উপাদান। প্রায় ৯৯ শতাংশ ক্যালসিয়াম জমা থাকে হাড় ও দাঁতে, বাকি অংশ রক্ত, মাংস পেশী এবং অন্যান্য কোষে সঞ্চিত থাকে। এ সকল উপাদানের মাধ্যমে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান প্রবাহিত হয় এবং স্নায়ুতন্ত্রের বার্তা বহনের জন্যেও তা অপরিহার্য।
ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পৃথিবী জুড়েই খুব সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা বিশেষ করে বয়স্ক মহিলাদের জন্য বেশ ঝুঁকিপুর্ন, এছাড়া এটি শিশুদের স্বাস্থ্যকর বিকাশের অন্তরায়।
সাধারণত মানুষ ক্যালসিয়াম ঘাটতির সমস্যাকে খুব হালকা ভাবে দেখে অথবা বুঝতে পারেনা সমস্যার কারণ, যে কারণে জটিলতার সৃষ্টি হয়। বয়স অনুযায়ী উল্লিখিত ক্যালসিয়াম প্রতিদিন গ্রহণ করা উচিৎ। এজন‌্য দুধ একটি ভাল উৎস । যাহোক- ক্যালসিয়াম ঘাটতির কিছু লক্ষণ নিচে উল্লেখ করা হলো-
  1. ১। পেশি ব্যাথা ও খিঁচ ধরাঃ
    এ রোগের খুব পরিচিত লক্ষণ হলো পেশি ব্যাথা হওয়া ও খিঁচ ধরা।
    * ক্যালসিয়ামের ঘাটতির কারণে স্নায়ুতন্ত্রের পেশি সমুহ অধিক সংবেদনশীল হয়ে পড়ে, যে কারণে হঠাত পেশিতে টান পড়ে ও প্রচন্ড ব্যাথা অনুভূত হয়।
    * হাত ও পায়ের পেশির অসাড়তা এবং কুঁচকে যাওয়া অনুভূত হওয়াও একই কারণে হতে পারে।
    * এ ঘাটতির কারণে স্নায়ু দুর্বল হয়ে স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  2. ২। হাড় দুর্বলতাঃ
    হাড়ের গঠন ও শক্তি বৃদ্ধিতে ক্যালসিয়াম আবশ্যক। তাই এর ঘাটতিতে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে।
    * হাড়ে অনাখাংখিত ব্যাথা ও ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে।
    * দীর্ঘদিন ঘাটতি চলতে থাকলে তা ব্যাক্তির উচ্চতা ও সর্বোপরি শারীরিক সামর্থ্যকে দুর্বল করে দেয়। তাই শিশুর বেড়ে ওঠার সময় সে প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম পাচ্ছে কিনা, সেদিকে নজর রাখা উচিৎ।
    * শরীরে চাহিদা অনুযায়ী ক্যালসিয়াম না পেলে তা স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য হাড়ে জমা থাকা ক্যালসিয়াম ব্যবহার করে, যে কারণে হাড় আরও বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে।
  3. ৩। দুর্বল দাঁতঃ
    এ ধরনের সমস্যার লক্ষণ দাঁতেও দেখা দিতে পারে, কারণ দাঁতের অন্যতম গাঠনিক উপাদান হলো ক্যালসিয়াম।
    * শিশুর দাঁত দেরিতে ওঠা অথবা ক্ষত যুক্ত দাঁত ওঠা এ সমস্যার লক্ষণ।
    * পুর্ন বয়স্কদের ক্ষেত্রেও ঘন ঘন দাঁতের ক্ষত হওয়া বা অন্যান্য সমস্যা হলো ক্যালসিয়াম ঘাটতির লক্ষণ।
  4. ৪। ঘন ঘন অসুস্থতাঃ
    শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, ব্যাক্টেরিরা, ভাইরাস বা ফাঙ্গাস জনিত আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য গুরুত্বপুর্ন উপাদান ক্যালসিয়াম।
    * যাদের ক্যালসিয়ামের ঘাটতি রয়েছে তারা খুব সহজেই ঠান্ডা গরম জনিত সমস্যা অথবা ভাইরাস রোগে আক্রান্ত হয়।
    * ক্যালসিয়াম শরীরের অক্সিজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ফলে ব্যাক্টেরিয়া ও ফাঙ্গাস বিতাড়িত হয়।
    * শরীরের বিভিন্ন স্থানের ক্ষত পূরণ ও দ্রুত সেরে উঠতে সহায়তা করে এটি।
  5. ৫। অপিরিমিত ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাসঃ
    বয়স ও উচ্চতা অনুসারে পরিমিত ওজন থাকা সুস্বাস্থ্যের জন্য পরিহার্য।
    * কিন্তু যাদের শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে চর্বি ক্ষয় ও ওজন কমানো সম্ভব হয়না ফলে ডায়েট বা শরীর চর্চা কোন কাজে আসে না।
    * এছাড়াও পর্যাপ্ত ক্যালসিয়ামের অভাবে দ্রুত ওজন কমে যেতে পারে অস্বাভাবিক ভাবে।
  6. ৬। মাসিককালীন সমস্যা বৃদ্ধি পাওয়াঃ
    মানসিক অস্বস্তি, খাবারে অরুচি, বমিবমি ভাব অথবা তলপেটে প্রচন্ড ব্যাথা ইত্যাদি মাসিক কালীন সমস্যা বেড়ে যেতে পারে ক্যালসিয়ামের ঘাটতির কারণে। রজঃচক্র নিয়মিত রাখতে ও এ ধরনের সমস্যা মোকাবেলায় ক্যালসিয়াম খুবই দরকারী উপাদান।
  7. ৭। অনিদ্রাঃ
    রাতে ঘুম না হওয়া স্রাদিনের মানসিকতা ও কাজের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। অনিদ্রা খুব ভালো লক্ষণ নয়, অনেকগুলো কারণে তা হতে পারে এবং ক্যালসিয়ামের ঘাটতি তার মধ্যে একটি কারণ।
    * মেলাটনিন নামক হরমোনের উপাদান বৃদ্ধি করে ক্যালসিয়াম যা ঘুমের জন্য দায়ী।
    * এছাড়াও এটি শরীরের জেগে থাকা ও ঘুমের জৈবিক নিয়ম ঠিক রাখে।
  8. ৮। দুশ্চিন্তা ও দুর্বল স্মৃতি:
    * খুব দ্রুত ভুলে যাওয়া অত্যন্ত বাজে সমস্যা যা বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। ক্যালসিয়ামের অভাবের লক্ষণ হিসেবে এটি দেখা দিতে পারে।
    * এছাড়া সব সময় মন খারাপ থাকা বা দুশ্চিন্তা হওয়া এ রোগের লক্ষণ।
  9. ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত সমস্যাকে খুব হালকা ভাবে নেওয়া উচিৎ নয়। নিয়মিত প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা উচিৎ এবং উপরের যে কোন একটি লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের শরনাপন্ন হওয়া আবশ্যক।
  1. royalbangla.com এ আপনার লেখা বা মতামত বা পরামর্শ পাঠাতে পারেন এই এ‌্যড্রেসে royal_bangla@yahoo.com
পরবর্তী পোস্ট

জেনে নিন থাইরয়েড সমস্যায় ওষুধ খাওয়ার সঠিক নিয়ম



আক্কেল দাঁত কখন এবং কেন ফেলতে হয়?

ডা: এস.এম.ছাদিক,ওরাল এন্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারী
সাধারণত আক্কেল দাঁত সম্পূর্ণভাবে উঠার সময় হলো ১৭-২৫ বছর বয়স । কিন্তু ১৭-২০ বছর বয়সের মধ্যেই বুঝা যায় আক্কেল দাঁত সঠিকভাবে উঠবে কি না।....
বিস্তারিত

শালগম এর উপকারীতা

পুষ্টিবিদ মোঃ ইকবাল হোসেন,পুষ্টি কর্মকর্তা
শালগম অত্যন্ত পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে সুপরিচিত। ভিটামিন এ, সি এবং ভিটামিন কে তে ভরপুর থাকে শালগম। শালগমের সবচাইতে ভালো দিক হচ্ছে এদের ক্যালরি খুব কম থাকে। নিয়মিত শালগম খাওয়ার কিছু কারণ সম্পর্কে জেনে নিই চলুন।........
বিস্তারিত

সাইনাস আর সাইনুসাইটিস, আসুন সহজে বুঝে নিই.

ডা: এস.এম.ছাদিক,ওরাল এন্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারী
স্বাভাবিক নিশ্বাস নিতে মনে হয় নাকে কি যেনো আটকে আছে,, আবার নাক দিয়ে পানিও পড়ে। গায়ে হালকা জ্বর ও আছে, আবার সাথে মাথা ব্যাথা। তিনি ডাক্তারের কাছে গেলেন, ডাক্তার বললেন, আপনার সাইনুসাইটিস হয়েছে,........
বিস্তারিত

গর্ভাবস্থায় কি চা-কফি পান করা যায়?

ডাঃ সরওয়াত আফরিনা আক্তার (রুমা) ,Consultant Sonologist
চা ও কফি আপনাদের অনেকেরই প্রছন্দের পানীয়। তাই গর্ভাবস্থায়ও খেতে চান, তাই না? এ ক্ষেত্রে আমাদের জানা উচিত এই পানীয় পান করা যাবে কি না, গেলে কতটুকু করা যাবে।......
বিস্তারিত

বাচ্চাদের ফল ও সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলবেন কিভাবে?


পুষ্টিবিদ মোঃ ইকবাল হোসেন।বিএসসি (সম্মান), এমএসসি (প্রথম শ্রেণী) (ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি)

মহিলাদের ইনফার্টিলিটি দূর করার ক্ষেত্রে ডিম্বাণুর গুণাগুণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?


ডাঃ হাসনা হোসেন আখী,এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য),এমএস (অবস এন্ড গাইনী)

কিডনী সিস্ট কতটা ঝুঁকিপূর্ণ ?


ডাঃ মোহাম্মদ ইব্রাহিম আলী,এম.বি.এস,বিসিএস (স্বাস্থ্য) ,এমএস (ইউরোলজি)

শিশুদের ডায়েট কেমন হওয়া উচিত ?


নিউট্রিশনিস্ট সুমাইয়া সিরাজী,Bsc (Hon's) Msc (food & Nutrition)

লিভারের সুস্থতায় কি করবেন?


নুসরাত জাহান, ডায়েট কনসালটেন্ট

অনিয়মিত পিরিয়ডের কারণ , চিকিৎসা ও ঘরোয়া প্রতিকার


ডাঃ হাসনা হোসেন আখী