Royalbangla
রয়াল বাংলা ডেস্ক
রয়াল বাংলা ডেস্ক

অ্যাজমা সমস্যার ঘরোয়া সমাধান

asthma

অ্যাজমা প্রতিরোধে করনীয়
বাংলাদেশে অ্যাজমা রোগীর সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ, যার মধ্যে ৪০ লাখই শিশু। বায়ু দূষণ, ভেজাল খাদ্য, কীটনাশক প্রয়োগ সহ নানা ধরনের কারণে এ রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। চমকে যাওয়ার মত ব্যাপার হলো , ওষুধ সেবনে জরুরী অ্যাজমা আক্রমন সাময়িক ভাবে রোধ করা গেলেও দীর্ঘমেয়াদে এ সব ওষুধ গ্রহণ করলে কোন কোন ক্ষেত্রে তা পুনরায় অ্যাজমা রোগের সৃষ্টি করে। এছাড়াও অ্যাজমা রোগের ওষুধের অনেকগুলো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে; যেমন, মানসিক অস্থিরতা, ব্রোণ-ফুস্কুড়ি, শারীরিক বৃদ্ধি রোধ, ওজন বৃদ্ধি এবং নানা ধরনের এলার্জি এর প্রভাবও দেখা দেয়। অ্যাজমা চিকিৎসায় তাই বাড়িতে বানানো পথ্য বেশ কার্যকরী ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মুক্ত। সেগুলো হলো-

১। লেবুঃ
* অ্যাজমা আক্রান্ত ব্যক্তির সাধারণত ভিটামিন সি এর ঘাটতি থাকে , লেবুতে প্রচুর ভিটামিন সি ও আন্টিওক্সিডেন্ট থাকে যা জরুরী অ্যাজমা আক্রমন প্রতিরোধ করে। * একটি লেবুর অর্ধেক রস পানিতে দিয়ে পরিমান মত চিনি মিশিয়ে শরবত করে নিয়মিত খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।

২। মধুঃ
* অ্যাজমার প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে মধু ভীষণ কার্যকরী। মধুর ঘ্রান নিলেই অনেকের অ্যাজমা লক্ষণ প্রশমিত হয়। * এক গ্লাস পানিতে, এক চামচ মধু মিশিয়ে রোজ সকালে খাওয়া যেতে পারে। * রাত্রে ঘুমানোর আগে এ চামচ মধু খাওয়াও উপকারী।
৩। আদাঃ
* আদা অ্যাজমা সহ সকল ভাইরাস জনিত রোগের প্রতিরোধে কাজ করে। এটি শ্বসনযন্ত্রের কোষ গুলোকে মুক্ত ও আরামপ্রদ অবস্থায় নিয়ে যায় যা শ্বাস চলাচলে সাহায্য করে দ্রুত। * আদা বেটে ২ কাপ জলের সঙ্গে মিশিয়ে রাতে ঘুমানোর আগে খাওয়া যায় নিয়মিত। * ছোট ছোট করে কেটে পানিতে ফুটিয়ে, পানি ঠান্ডা হলে তা পান করা যেতে পারে। * কাঁচা আদা লবন দিয়ে চিবিয়ে খেলেও উপকার পাওয়া যায়।
৪। রসুনঃ
* প্রাথমিক অবস্থায় অ্যাজমা সম্পূর্ণ নিরাময় হতে পারে নিয়মিত রসুন সেবনে। * ২/৩ টি রসুনের কোয়া অর্ধেক কাপ দুধের সঙ্গে মিশিয়ে ফুটাতে হবে। তা ঠান্ডা হলে খাওয়া যায়, যা এক্ষেত্রে দারুন কার্যকরী। * গরম ভাতের সঙ্গে সেদ্ধ করেও খাওয়া যেতে পারে।
৫। কফিঃ
কফি পানের অনেক উপকারিতা রয়েছে। * নিয়মিত কফি পান অ্যাজমা প্রতিরোধ করে।
* শ্বাসযন্ত্রকে সতেজ রাখে যা নিশ্বাসের জড়তা রোধ করে।
* তবে দিনে ৩ কাপের বেশি খাওয়া উচিত নয়।
৬। পেয়াজঃ
* কাঁচা পেয়াজ চিবিয়ে খেলে তাৎক্ষনিক অ্যাজমা আক্রমন থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
* পেঁয়াজের গন্ধজনিত সমস্যা থাকলে সেদ্ধ করে খেলেও উপকার মেলে।
৭। সরিষার তেলঃ
* অ্যাজমা আক্রমনে দ্রুত সরিষার তেল মালিশ করলে উপশম হয়।
* সরিষার তেল গরম করে তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে আসলে বুকে ঘন ঘন মালিশ করতে হয়। এতে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়।
৮। হলুদঃ
* ১ চামচের ৪ ভাগের ১ ভাগ কাঁচা হলুদের গুড়ো এক গ্লাস পানির সঙ্গে মিশিয়ে সেবন করা যেতে পারে।
৯। ডালিমঃ
* এলার্জি জনিত সমস্যায় দারুন কার্যকরী ফল ডালিম।
* নিয়মিত ডালিমের শরবত খেলে অ্যাজমা রোগে উপকার পাওয়া যায়।
১০। গোলমরিচঃ
* ভীষণ ঝাঁঝালো গন্ধের মশলা হলেও গোলমরিচ এ রোগে দারুন প্রশমন করে।
* ১/৪ চামচ গোলমরিচ বেটে, অল্প পরিমানে আদা ও রসুনের সঙ্গে সেবন করলে তাৎক্ষনিক উপকার পাওয়া যায়। খুব সহজেই পাওয়া এই উপাদান গুলো থাকলে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এ রোগের সরাসরি প্রতিকার না থাকলেও তা নিয়ন্ত্রনের মধ্যে রাখা যায়। ধুলাবালি মুক্ত যায়গায় থাকা, ধূমপান থেকে বিরত থাকা, বসবাসের স্থান সবসময় পরিস্কার পরিছন্ন রাখা, তেলে ভাজা খাবার পরিহার করা এসব অভ্যাস মেনে চললে অ্যাজমা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
  1. royalbangla.com এ আপনার লেখা বা মতামত বা পরামর্শ পাঠাতে পারেন এই এ‌্যড্রেসে royal_bangla@yahoo.com
পরবর্তী পোস্ট

জেনে নিন থাইরয়েড সমস্যায় ওষুধ খাওয়ার সঠিক নিয়ম


আক্কেল দাঁত কখন এবং কেন ফেলতে হয়?

ডা: এস.এম.ছাদিক,ওরাল এন্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারী
সাধারণত আক্কেল দাঁত সম্পূর্ণভাবে উঠার সময় হলো ১৭-২৫ বছর বয়স । কিন্তু ১৭-২০ বছর বয়সের মধ্যেই বুঝা যায় আক্কেল দাঁত সঠিকভাবে উঠবে কি না।....
বিস্তারিত

শালগম এর উপকারীতা

পুষ্টিবিদ মোঃ ইকবাল হোসেন,পুষ্টি কর্মকর্তা
শালগম অত্যন্ত পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে সুপরিচিত। ভিটামিন এ, সি এবং ভিটামিন কে তে ভরপুর থাকে শালগম। শালগমের সবচাইতে ভালো দিক হচ্ছে এদের ক্যালরি খুব কম থাকে। নিয়মিত শালগম খাওয়ার কিছু কারণ সম্পর্কে জেনে নিই চলুন।........
বিস্তারিত

সাইনাস আর সাইনুসাইটিস, আসুন সহজে বুঝে নিই.

ডা: এস.এম.ছাদিক,ওরাল এন্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারী
স্বাভাবিক নিশ্বাস নিতে মনে হয় নাকে কি যেনো আটকে আছে,, আবার নাক দিয়ে পানিও পড়ে। গায়ে হালকা জ্বর ও আছে, আবার সাথে মাথা ব্যাথা। তিনি ডাক্তারের কাছে গেলেন, ডাক্তার বললেন, আপনার সাইনুসাইটিস হয়েছে,........
বিস্তারিত

গর্ভাবস্থায় কি চা-কফি পান করা যায়?

ডাঃ সরওয়াত আফরিনা আক্তার (রুমা) ,Consultant Sonologist
চা ও কফি আপনাদের অনেকেরই প্রছন্দের পানীয়। তাই গর্ভাবস্থায়ও খেতে চান, তাই না? এ ক্ষেত্রে আমাদের জানা উচিত এই পানীয় পান করা যাবে কি না, গেলে কতটুকু করা যাবে।......
বিস্তারিত

বাচ্চাদের ফল ও সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলবেন কিভাবে?


পুষ্টিবিদ মোঃ ইকবাল হোসেন।বিএসসি (সম্মান), এমএসসি (প্রথম শ্রেণী) (ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি)

মহিলাদের ইনফার্টিলিটি দূর করার ক্ষেত্রে ডিম্বাণুর গুণাগুণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?


ডাঃ হাসনা হোসেন আখী,এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য),এমএস (অবস এন্ড গাইনী)

কিডনী সিস্ট কতটা ঝুঁকিপূর্ণ ?


ডাঃ মোহাম্মদ ইব্রাহিম আলী,এম.বি.এস,বিসিএস (স্বাস্থ্য) ,এমএস (ইউরোলজি)

শিশুদের ডায়েট কেমন হওয়া উচিত ?


নিউট্রিশনিস্ট সুমাইয়া সিরাজী,Bsc (Hon's) Msc (food & Nutrition)

লিভারের সুস্থতায় কি করবেন?


নুসরাত জাহান, ডায়েট কনসালটেন্ট

অনিয়মিত পিরিয়ডের কারণ , চিকিৎসা ও ঘরোয়া প্রতিকার


ডাঃ হাসনা হোসেন আখী